![]() |
সরিষা ফুল |
সরিষা ফুল সরাসরি খাওয়ার প্রচলন খুব একটা নেই। তবে এটি দিয়ে কিছু খাবার তৈরি করা যেতে পারে। সর্দি, ঠান্ডা লাগলে এটি বেশ উপকারে আসে।
জেনে নিন সরিষা ফুলের উপকারিতার কথা
১. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ: সরিষা ফুলে কিছু পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকতে পারে, যা শরীরের ফ্রি-র্যাডিক্যাল কমাতে সাহায্য করতে পারে।
২. পাচনতন্ত্রের জন্য সহায়ক: সরিষা ফুলে কিছু পরিমাণে ফাইবার থাকতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করতে পারে।
৩. ভিটামিন ও মিনারেলের উৎস: যদিও সরাসরি গবেষণা কম, তবে সরিষার গাছের অন্যান্য অংশের মতো ফুলেও কিছু ভিটামিন (যেমন ভিটামিন সি) এবং খনিজ (যেমন ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম) থাকতে পারে।
৪. প্রাকৃতিক ঔষধি গুণ: ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে সরিষা ফুলকে হালকা জ্বর, সর্দি বা কাশি কমানোর জন্য ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া যায়।
৫. ডিটক্সিফিকেশন: সরিষা ফুলের উপাদানগুলো শরীরের টক্সিন বের করতে সহায়ক হতে পারে।
যেভাবে খাওয়া যেতে পারে-
১. সরিষা ফুল ভাজি: সরিষা ফুল ধুয়ে হালকা তেলে ভাজা যায়। এতে পেঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ এবং মশলা যোগ করলে এটি সহজে ভাত বা রুটির সঙ্গে খাওয়া যায়।
২. সরিষা ফুলের বড়া: সরিষা ফুল ধুয়ে ময়দা, বেসন, লবন, মরিচের গুঁড়া ও পানি দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণ থেকে ছোট বড়ার মতো তৈরি করে গরম তেলে ভেজে তুলুন। গরম চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন।
৩. সরিষা ফুলের ভর্তা: সরিষা ফুল ধুয়ে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ ফুলের সঙ্গে সরিষার তেল, কাঁচা মরিচ, লবণ এবং পেঁয়াজ মিশিয়ে একটি মসৃণ ভর্তা তৈরি করুন। ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
৪. সবজির সঙ্গে মিশিয়ে রান্না: সরিষা ফুল শীতকালীন অন্যান্য সবজির (যেমন আলু, বেগুন বা শিম) সঙ্গে মিশিয়ে ভাজি বা ঝোল রান্নায় ব্যবহার করা যায়। এটি রান্নার স্বাদ এবং পুষ্টি বাড়ায়।
৫. মশলাদার স্যুপ বা স্টু: সরিষা ফুল দিয়ে মশলাদার স্যুপ বা সবজি স্টু তৈরি করা যায়। এতে হলুদ, আদা, রসুন, এবং অন্যান্য মসলা ব্যবহার করলে স্বাদ আরও উন্নত হয়।
সতর্কতা-
১. রাসায়নিক বা কীটনাশকমুক্ত সরিষা ফুল ব্যবহার করুন।
২. ফুলটি ভালোভাবে ধুয়ে নিন যাতে মাটি বা ধুলো না থাকে।
৩. নতুন কিছু খাওয়ার আগে শরীরের অ্যালার্জি বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।