আয়োডিনের অভাব হলে শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আয়োডিন একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয়। এর অভাবে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
![]() |
খাবার লবণ |
আয়োডিনের অভাবের লক্ষণগুলো জেনে নিন-
১. গলগণ্ড: আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায়, যা গলগণ্ড নামে পরিচিত। এটি গলায় ফুলে ওঠার মতো দেখা যায়।
২. ওজন বৃদ্ধি: আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে যায়, যা শরীরের মেটাবলিজম ধীর করে দেয় এবং ওজন বাড়ায়।
৩. শরীরের দুর্বলতা: আপনি অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন, কারণ থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শরীর শক্তি উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
৪. চুল পড়া: আয়োডিনের অভাব চুলের গুণমান খারাপ করে এবং চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
৫. ত্বকের শুষ্কতা: থাইরয়েড হরমোন ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। আয়োডিনের অভাবে ত্বক শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
৬. মেমোরি কমে যাওয়া: আয়োডিনের অভাবে ব্রেনের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং মনোযোগের অভাব ঘটায়।
৭. হৃদস্পন্দনের গতি কমে যাওয়া: থাইরয়েড হরমোনের অভাবে হৃদস্পন্দনের গতি ধীর হতে পারে। এটি মাথা ঘোরা বা ক্লান্তির অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
৮. ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা: আয়োডিনের অভাবে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়, ফলে শীতে বেশি ঠান্ডা লাগে।
৯. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: আয়োডিনের অভাবে নারীদের ঋতুচক্র অনিয়মিত হতে পারে এবং প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
আয়োডিনের অভাব পরীক্ষা-
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা জানা যায়। থাইরয়েড প্রোফাইল (T3, T4, TSH) পরীক্ষা করা হয়।
প্রতিরোধ এবং প্রতিকার-
আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করুন: রান্নায় নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা আয়োডিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার খান: মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডিম, দুধ, এবং দুগ্ধজাত পণ্য আয়োডিনের ভালো উৎস।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন-
আয়োডিনের অভাবের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
সঠিক পরিমাণে আয়োডিন গ্রহণ শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভাবের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।