পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিতে আন্দোলনে কৃষক



লাভের আশায় এনজিও থেকে ঋণ ও স্থানীয়ভাবে ধারকর্জ করে চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ করেছেন উপজেলার খলিষাকুণ্ডি গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান। খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। পেঁয়াজের ফলনও হয়েছে ভালো। জমি থেকে এখন পেঁয়াজ তোলার সময় হয়েছে। পেঁয়াজ বিক্রি করে ঋণ শোধের চিন্তা করছিলেন আব্দুর রহমান। কিন্তু ক্রমাগত দাম কমে যাওয়ায় চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। 

আব্দুর রহমান বলছিলেন, বর্তমান বাজারমূল্যে তাঁর এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রয় হবে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। অথচ বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। ফলে লাভ তো দূরের কথা, ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। 

একই অবস্থা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হাজার হাজার পেঁয়াজ চাষির। ন্যায্যমূল্যের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন উপজেলার কৃষকরা। বুধবার খলিষাকুণ্ডি বাজারে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাষিরা। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয়দের অনুরোধে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন তারা। একই দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার খলিষাকুণ্ডি বাজারে মানববন্ধন করেন কৃষকরা। পরে কৃষকরা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করে ফের কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন। 

উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে ৩ হাজার ২৪১ হেক্টর জমিতে। এতে বিঘাপ্রতি চাষে খরচ হয়েছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে এ উপজেলার প্রায় ৪০ শতাংশ জমির পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। 

উপজেলার পেঁয়াজের আড়তগুলোতে দেখা যায়, বুধবার পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে। বৃহস্পতিবার সকালে বিক্রয় হয়েছে ২৭-২৮ টাকা দামে। এতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষকদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। তারাগুনিয়া কাঁচাবাজারের আড়তদার সামসুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ ওঠার শুরুতে ১০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিদিন দাম কমছে।

তারাগুনিয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি জামাল উদ্দীন মাল বলেন, ৬ বিঘা জমিতে তিনি মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা মণ দরে পেঁয়াজের বীজ ক্রয় ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের বর্তমান দাম অনুযায়ী বীজের দাম তোলা মুশকিল হয়ে পড়বে। 

দৌলতপুরের ইউএনও আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং ক্রমাগত দরপতনে চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। কয়েক জায়গায় বিক্ষোভ করেছেন। 


তথ্যসূত্র: দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি, সমকাল, প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ | ১২:১২

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

কৃষক ভাইদের জন্য সমসাময়িক তথ্য

W