শীতকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন কৌশল/চাষাবাদ পদ্ধতি প্রতি একরে (১০০
শতাংশ)
মাটিঃ
সাধারণত সুনিস্কাশিত এটেল দোঁআশ এবং পলি দোআঁশ
মাটি উত্তম।
বীজতলাঃ
১। চাষ: ৩
থেকে ৪ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করে নিতে হবে।
২। বীজ:
এক একর পেঁয়াজ রোপনের জন্য ২.৫ কেজি বীজ এবং ২.৫ কেজি বীজ বপনের জন্য বীজতলা
প্রয়োজন ১২.৫ শতক।
৩। বীজতলার
সার: ২.৫ কেজি বীজ/১২.৫ শতাংশ বীজতলার জন্য
ক) জৈব সার : ৪০ কেজি
খ) টিএসপি : ৮ কেজি
গ) ডিএপি : ৬ কেজি
ঘ) এমও পি : ৮ কেজি
ঙ) জিপসাম : ৫ কেজি
চ) দস্তা : ৫০০ গ্রাম
ছ) সালফার ৮০% : ৫০০ গ্রাম
জ) বোরণ : ৫০০ গ্রাম
ঝ) ম্যাগনেসিয়াম সালফেট : ১ কেজি
ঞ) দানাদার বিষ (ফিপ্রোনিল বা
ক্লোরানট্রিনিলিপ্রোলি গ্রæপের যেমন- ডায়েগো সুপার) : ১ কেজি
ট) বীজ শোধক (প্রোভেক্স) : ১০ গ্রাম
ঠ) ম্যানকোজেব : ৫০০ গ্রাম
ড) ইউরিয়া : ১০ কেজি উপরি প্রয়োগ চারার বয়স ২০
দিন হলে।
১। আঁচড়া দেওয়ার পরে বীজ বপন করে দুইটি মই দিয়ে
বীজ মাটি দ্বারা ঢেকে দিতে হবে।
২। বীজ বপনের পর দ্রæত সেচ দিতে হবে স্প্রে অথবা
ঢালা পদ্ধতিতে।
৩। চারা লাগানোর উপযুক্ত (৪০-৫০ দিন) হওয়া
পর্যন্ত ৪-৫ টি সেচ প্রয়োজন হয়।
আন্ত: পরিচর্যাঃ আগাছা পরিস্কার করতে হবে। চারার ৩ পাতা বা ১৪-১৫
দিন বয়স হলে এই ক্ষেত্রে অক্সাডায়জন গ্রুপের আগাছানাশক স্প্রে করতে হবে।
প্রয়োজনে নিড়ানো দিতে হবে।
রোগবালাই ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ
১। পেঁয়াজের বীজতলায় ড্যাম্পিং অফ, ফিউজারিয়াম
উইল্ট, ডাইব্যাক, পার্পল ব্লচ, পিংক রুট, ইত্যাদি রোগ দেখা যায়।
২। পোকার মধ্যে পিঁপরা, কাটুই পোকা পরে থ্রিপস
পোকার আক্রমণ হয়।
৩। প্রতিরোধক হিসেবে ৩ থেকে ৪টি সিডিউল স্প্রে
করতে হয়।
৪। ম্যানকোজেব, মেটালেক্সিল, কার্বেন্ডাজিম, এজোক্সিস্ট্রোবিন,
টেবুকোনাজল, ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রবিন, ফ্লুওপাইরাম গ্রুপের ছত্রাকনাশক ভালো কাজ
করে।
৫। ইমিডাক্লোপিড, ডেল্টামেথ্রিন, ফিপ্রোনিল,
এমামেকাটিন বেনজোয়েট, প্রোফেনোফস,
ক্লোরানট্রিনিলিপ্রোলি, বিটা সাইফ্লুথ্রিন গ্রুপের
কীটনাশক ভালো কাজ করে।
প্রথম
স্প্রেঃ
রিডোমিল গোল্ড
/সেনোক্সানিল/ডায়থেম এম ৪৫/ইন্ডোফিল- ৫ গ্রাম/লিটার পানি।
সলোমন-১ মিলি/ লিটার পানি।
দ্বিতীয়
স্প্রেঃ
নাটিভো/এমিস্টার টপ
১-২ গ্রাম/লিটার পানি
এন্ট্রাকাল ৫ গ্রাম/ লিটার পানি।
প্রলয়-১ মিলি/ লিটার পানি।
তৃতীয় স্প্রেঃ
লুনা ১ মিলি লিটার পানি
ডায়থেম এম ৪৫-৫ গ্রাম/ লিটার পানি।
প্রলয়/ ফেনোস কুইক-১ মিলি/ লিটার পানি।
৪র্থ
স্প্রেঃ
লুনা ১ থেকে ১.৫ মি.লি
লিটার পানি
চিলেটেড দস্তা-১ গ্রাম/ লিটার পানি।
প্রলয়/সলোমন/ইমিটাফ/ইমপেল- ১ মিলি/ লিটার পানি
বি:দ্রঃ প্রতি ৫ শতাংশ জমির জন্য ১০ লিটার পানি স্প্রে করতে হবে ৭-১০
দিন পরপর।
মূল জমিতে
চারা লাগানো (১০০ শতাংশ জমির জন্য)
১। মূল জমি ৩-৪ টি চাষ ও
মই দিতে হবে।
২। বীজতলার চারার বয়স ৪০-৪৫ দিন হলে ৬-৮ ইঞ্চি
দুরে লাইন এবং ৪-৬ ইঞ্চি দুরে চারা রোপন করতে হবে।
মুল জমির সার ব্যবস্থাপনা:
ক) ইউরিয়া- ১০০ কেজি (দ্বিতীয় সেচের সাথে উপরি
প্রয়োগ)
খ) টিএসপি- ৫০ কেজি
গ) ডিএপি- ৫০ কেজি
ঘ) এমওপি- ১০০ কেজি
ঙ) জিপসাম- ৫০ কেজি
চ) জিংক সালফেট- ৫ কেজি
ছ) বোরন- ৫ কেজি
জ) ম্যাগনেসিয়াম সালফেট- (৫ কেজি চাষের সাথে এবং
৫ কেজি দ্বিতীয় সেচে ইউরিয়ার সাথে)।
ঝ) সালফার ৮০% - ১০ কেজি
১। চারা রোপন শেষ হলে
দ্রুত সেচ দিতে হবে।
২। আগাছা দমন করতে হবে। চারা রোপণের পর
পেন্ডিমিথালিন গ্রুপের আগাছানাশক ১০ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করার পর সেচ
দিতে হবে।
৩। পরবর্তীতে আগাছা গজালে অক্সাডায়াজন গ্রুপের ১
মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
৪। তারপরেও আগাছা দেখা দিলে নিড়ানো দিতে হবে।
৫। ২০-২৫ দিন পর মাটি শুকিয়ে ফেটে গেলে দ্বিতীয়
সেচ দিতে হবে।
৬। দ্বিতীয় সেচের পর জমিতে জো আসলে (৭-১০ দিন পর)
টেকি কোদাল দিয়ে লাইন বরাবর কুপিয়ে মাটি আলগা করে দিতে হবে।
রোগবালাই
ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ
১০ থেকে ১৫ দিন পরপর ৫
থেকে ৬টি সিডিউল স্প্রে দিতে হবে।
প্রথম স্প্রেঃ
রিডোমিল গোল্ড
/সেনোক্সানিল/ডায়থেম এম ৪৫/ইন্ডোফিল- ৫ গ্রাম/লিটার পানি।
সলোমন-১ মিলি/ লিটার
পানি।
দ্বিতীয় স্প্রেঃ
নাটিভো/এমিস্টার টপ
১-২ গ্রাম/লিটার পানি।
এস্ট্রাকাল ৫ গ্রাম/
লিটার পানি।
প্রলয়-১ মিলি/ লিটার
পানি।
তৃতীয় স্প্রেঃ
লুনা ১ মিলি লিটার
পানি
ডায়থেম এম ৪৫-৫ গ্রাম/
লিটার পানি।
প্রলয়/ ফেনোস কুইক-১
মিলি/ লিটার পানি।
৪র্থ স্প্রেঃ
লুনা ১ থেকে ১.৫ মি.লি
লিটার পানি
চিলেটেড দস্তা-১ গ্রাম/ লিটার পানি।
প্রলয়/সলোমন/ইমিটাফ/ইমপেল- ১ মিলি/ লিটার
পানি
৫ম
স্প্রেঃ
লুনা ১ থেকে ১.৫ মি.লি
লিটার পানি।
চিলেটেড দস্তা-১ গ্রাম/ লিটার পানি।
বোরিক পাইডার- ১ গ্রাম/ লিটার পানি।
প্রলয়/সলোমন/ইমিটাফ/ইমপেল- ১ মিলি/ লিটার
পানি
৬ষ্ঠ
স্প্রেঃ
লুনা ১ থেকে ১.৫ মি.লি
লিটার পানি।
চিলেটেড দস্তা-১ গ্রাম/
লিটার পানি।
বোরিক পাইডার- ১ গ্রাম/
লিটার পানি।
প্রলয়/সলোমন/ইমিটাফ/ইমপেল-
১ মিলি/ লিটার পানি।
বি:দ্রঃ প্রতি ৫ শতাংশ জমির
জন্য ১০ লিটার পানি স্প্রে করতে হবে ১০-১৫ দিন পরপর।
পেঁয়াজ চাষিদের জন্য খুবই ভাল
উত্তরমুছুন